অনন্য প্রাকৃতিক সুপ্তধারা জলপ্রপাত পার্বত্য চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার চন্দ্রনাথ রির্জাভ ফরেস্টের চিরসবুজ বন ইকোপার্ককে শোভা পাচ্ছে। সাধারণত বর্ষা মৌসুম ছাড়া সারা বছরই এই ঝর্ণায় পানি খুবই কম থাকে। তবে বর্ষাকালে সুপ্ত বসন্ত পূর্ণ শক্তিতে আপনা-আপনি আসে। সুপ্তধারা ঝর্ণার কাছে সহস্রধারা ঝর্ণা নামে আরেকটি জলপ্রপাত রয়েছে। তাই বর্ষা মৌসুমে ঝর্ণার সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত দর্শনার্থী সুপ্তধারা ঝর্ণা দেখতে সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে ছুটে আসেন।

সুপ্তধারা জলপ্রপাত সীতাকুণ্ড
চট্টগ্রামশাফায়েত আল-অনিক ·
১৪ নভেম্বর, ২০২৫
সুপ্তধারা জলপ্রপাত সীতাকুণ্ড পরিচিতি
সুপ্তধারা ঝর্ণা দেখতে কিভাবে যাবেন
সুপ্তধারা ঝর্ণা সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে অবস্থিত। ঢাকা থেকে সড়কপথে সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে যাওয়ার জন্য আপনি এস আলম, সৌদিয়া, গ্রীনলাইন, সিল্ক লাইন, সোহাগ, বাগদাদ এক্সপ্রেস, ইউনিক ইত্যাদির বিভিন্ন এসি, নন-এসি বাস পাবেন। এই বাসগুলো মূলত ঢাকা সয়দাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। . কিন্তু সীতাকুণ্ডে প্রয়োজন অনুযায়ী সব বাস থামে। সীতাকুণ্ড ইকো পার্কে যেতে হলে ঢাকা থেকে বাসে উঠলে সীতাকুণ্ড বাসস্টপ থেকে ২ কিমি দূরে ফকিরহাট নামক স্থানে বাস থেকে নামতে হবে।
চট্টগ্রাম শহর থেকে সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের দূরত্ব মাত্র ৩৫ কিলোমিটার। শহরের মাদারবাড়ি ও কদমাতলী বাস স্টেশন থেকে সীতাকুণ্ডের জন্য বাস ছেড়ে যায়। এছাড়া অলংকার থেকে মেক্সিযোগে সীতাকুণ্ডের ফকিরহাট যেতে পারেন।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী ঢাকা মেইল ট্রেনটি শুধুমাত্র সীতাকুণ্ড রেলস্টেশনে থামে। ট্রেনটি ঢাকা থেকে রাত ১১টায় যাত্রা শুরু করে পরদিন সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে সীতাকুণ্ডে পৌঁছায়। আর আপনি যদি আন্তঃনগর ট্রেনে আসতে চান, তাহলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের যেকোনো আন্তঃনগর ট্রেনে চড়ে ফেনী স্টেশনে নেমে সেখান থেকে ১০/১৫ টাকা ভাড়ায় অটো/রিকশা নিয়ে মহিপাল বাসস্ট্যান্ডে আসুন। . 50-80 টাকায় মহিপাল বাসস্ট্যান্ড থেকে লোকাল বাসে সীতাকুণ্ড যেতে পারেন।
সীতাকুণ্ড থেকে সারাদিনের জন্য সিএনজি ভাড়া করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সেক্ষেত্রে খরচ হতে পারে 1000 থেকে 1200 টাকা। সারাদিনের জন্য সিএনজি ভাড়া নিলে ইকো পার্কে গিয়ে অনেক সময় বাঁচানো যায়। আর বাকি সময়ে সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই এলাকার আরও কিছু ঝর্ণা ও ঝিরি ট্রেইল দেখতে পারবেন।
সীতাকুণ্ডে কোথায় থাকবেন
সীতাকুণ্ডে থাকার জন্য ভালো মানের আবাসিক হোটেল নেই। সীতাকুণ্ড বাজারে কয়েকটি মাঝারি মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। এছাড়া টেলিকমিউনিকেশনের অধীনে একটি ডাকবাংলো রয়েছে। অনুমতি নিয়ে সেখানে থাকার চেষ্টা করতে পারেন। সম্প্রতি সীতাকুণ্ড পৌরসভার ডিটি রোডে হোটেল সৌদিয়া নামে একটি আবাসিক হোটেল চালু হয়েছে। হোটেলে 800 থেকে 1600 টাকায় বিভিন্ন ধরনের রুম পাওয়া যায়। বুকিংয়ের জন্য 01991-787979, 01816-518119 নম্বরে কল করতে পারেন।
এছাড়া রাত্রি যাপনের জন্য চট্টগ্রাম যেতে পারেন। বিভিন্ন মানের হোটেল আছে। এর মধ্যে হোটেল প্যারামাউন্ট, হোটেল এশিয়ান এসআর, হোটেল সাফিনা, হোটেল নাবা ইন, হোটেল ল্যান্ডমার্ক ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
ফিচার ইমেজ: আহসানুল হক
সম্পর্কিত পোস্ট
কুমিরা ঘাট, সীতাকুণ্ড
সীতাকুণ্ড উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়ন কুমিরা। চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ যাওয়ার জন্য এখানে সবচেয়ে পরিচিত কুমিরা-সন্দ্বীপ ফ ...
শাফায়েত আল-অনিক
•
২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
বাশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত
প্রাকৃতিক সব রূপ নিয়ে বসে আছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা। এখানে রয়েছে পাহাড়, লেক, ঝর্ণা, সমুদ্র সৈকত, প্রাচীন স্থাপ ...
শাফায়েত আল-অনিক
•
১৬ নভেম্বর, ২০২৫
গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত
গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলায় অবস্থিত। এই সৈকতটি স্থানীয় মানুষের কাছে 'মুরাদপুর সৈকত' নামে ...
শাফায়েত আল-অনিক
•
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫


