প্রাকৃতিক সব রূপ নিয়ে বসে আছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা। এখানে রয়েছে পাহাড়, লেক, ঝর্ণা, সমুদ্র সৈকত, প্রাচীন স্থাপনা ইত্যাদি। বাশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান হিসেবেও পরিচিত। সারি সারি রোয়ান গাছ, খোলামেলা পরিবেশ, সবুজ ঘাস, রয়েছে পিকনিক স্পট, সব মিলিয়ে বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত তার অপরূপ সৌন্দর্য নিয়ে অপেক্ষা করছে দর্শনার্থীদের জন্য।

বাশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত
চট্টগ্রামশাফায়েত আল-অনিক ·
১৬ নভেম্বর, ২০২৫
বাশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত পরিচিতি
কখন যাবেন
বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হল সেখানে সূর্যাস্ত দেখা যাতে আপনি দুপুরের পর সেখানে যেতে পারেন। একটি লোহার সেতু আছে, যেখান দিয়ে আপনি সমুদ্রের উপর দিয়ে হেঁটে যেতে পারেন। মূলত এটিই পর্যটকদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে। এছাড়া আপনি চাইলে স্পিডবোটে করেও ঘুরে আসতে পারেন। আপনি যদি শীতের সকালে বেড়াতে যান তবে আপনি গাছ থেকে সদ্য চেপে খেজুরের রস পান করার সুযোগ পাবেন। কিনতে চাইলে প্রতি লিটারে খরচ পড়বে মাত্র ২০ টাকা! এবং সন্ধ্যার পরেই ফিরতে হবে কারণ পরে ফেরার জন্য সিএনজি পেতে সমস্যা হতে পারে। রাতে সিএনজি চলে কতটা পর্যন্ত জেনে রাখা ভালো।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে বাসে করে বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতে যেতে চাইলে চট্টগ্রামগামী যেকোনো বাসে যেতে পারেন। তবে আপনাকে চট্টগ্রামের আগে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া বাজারে নামতে হবে। বাসের সুপারভাইজারকে আগেই বলে দিন বাঁশবাড়িয়া নামিয়ে দিতে। ঢাকা থেকে ট্রেনে যেতে হলে ফেনীতে নামতে হবে। ফেনীর মহিপাল থেকে সীতাকুন্ডের বাসে (ভাড়া 60-70 টাকা, 1 ঘন্টা) বাঁশবাড়িয়া। সেখান থেকে 20-25 টাকায় লোকাল সিএনজি ব্যবহার করে বাশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতে যাওয়া যায়।
চট্টগ্রামের অলংকার বা এ কে খান থেকে সীতাকুণ্ড যাওয়ার জন্য যে কোনো বাস বা টেম্পুতে চড়ে বাঁশবাড়িয়া বাজারে নামুন। ভাড়া হবে ৩০-৪০ টাকা। বাঁশবাড়িয়া বাজার থেকে বাঁশবাড়িয়া ঘাটে যেতে সিএনজি ভাড়া জনপ্রতি ২০ টাকা।, আপনি চাইলে সিএনজি রিজার্ভ নিতে পারেন, রিজার্ভ লাগবে ৩০০ টাকা।
থাকা ও খাওয়া
সীতাকুণ্ডে কিছু মাঝারি মানের হোটেল পাওয়া যায়। সীতাকুণ্ড বাজারে হোটেল সাইমুন আছে, যেখানে ৩০০ থেকে ৭০০ টাকায় রুম ভাড়া নেওয়া যায়। এছাড়া, সম্প্রতি ডিটি রোডে হোটেল সৌদিয়া নামে একটি নতুন আবাসিক হোটেল চালু হয়েছে।হোটেলে 800 থেকে 1600 টাকায় বিভিন্ন ধরনের রুম পাওয়া যায়। বুকিংয়ের জন্য 01991-787979, 01816-518119 নম্বরে কল করতে পারেন। ভালো কোথাও থাকতে হলে আপনাকে চট্টগ্রামে যেতে হবে। এছাড়া নাইডোয়ারি মার্কেট সার্চ করলে কিছু মিড রেঞ্জের হোটেল পাবেন। সীতাকুণ্ডে খাবারের জন্য বেশ কিছু হোটেল আছে। এর মধ্যে আল আমিন হোটেলের খাবার মোটামুটি ভালো মানের। আর চট্টগ্রামে গেলে এখানে সব ধরনের রেস্টুরেন্ট পাবেন।
ভ্রমণ পরিকল্পনা
সীতাকুণ্ড উপজেলায় অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। সীতাকুণ্ডের পাশে মিরসরাই ও ভাটিয়ারিতেও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। একা সীতাকুণ্ডে দেখার মতো অনেক কিছু আছে, যেমন গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত, সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক, মহামায়া লেক, চন্দ্রনাথ মন্দির, কুমিরা ঘাট, কমলদহ ঝর্ণা, ঝাড়ঝাড়ী ঝর্ণা সহ আরও অনেক কিছু। আপনি সেই অনুযায়ী আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেন। এমনকি বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত পরিদর্শন করার পরে, আপনি কতটা সময় আছে তার উপর নির্ভর করে আগে বা পরে আপনার ট্যুর প্ল্যান সাজাতে পারেন।
সম্পর্কিত পোস্ট
কুমিরা ঘাট, সীতাকুণ্ড
সীতাকুণ্ড উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়ন কুমিরা। চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ যাওয়ার জন্য এখানে সবচেয়ে পরিচিত কুমিরা-সন্দ্বীপ ফ ...
শাফায়েত আল-অনিক
•
২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত
গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলায় অবস্থিত। এই সৈকতটি স্থানীয় মানুষের কাছে 'মুরাদপুর সৈকত' নামে ...
শাফায়েত আল-অনিক
•
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক
সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক (সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক) চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। যা বর্তমানে একটি অসাধারণ প ...
শাফায়েত আল-অনিক
•
২৯ নভেম্বর, ২০২৫


