সন্দ্বীপ (সন্দ্বীপ) বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে চট্টগ্রাম জেলার মেঘনা নদীর মুখে অবস্থিত একটি দ্বীপ উপজেলা। প্রায় 4 লক্ষ জনসংখ্যা সহ এই দ্বীপটি 50 কিলোমিটার দীর্ঘ এবং 5-15 কিলোমিটার চওড়া। খোলা সবুজ মাঠ, নদীর ধারের ঘাস কিংবা সহজ-সরল মানুষ, এক কথায় এই দ্বীপের সবকিছুই ভালো লাগার মতো। এছাড়াও দ্বীপটিতে দর্শনীয় বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থান রয়েছে। নদী ও মহাসাগরে ঘেরা এই দ্বীপে ভ্রমণ আজীবন মনে রাখার মতো। আর শীতকালে ক্যাম্পিং করার জন্য সন্দ্বীপের (রহমতপুর) পশ্চিম পাশের নদীর তীর একটি আদর্শ স্থান। এখানকার পরিবেশ আপনাকে মুগ্ধ করবে।

সন্দ্বীপ
চট্টগ্রামশাফায়েত আল-অনিক ·
২১ অক্টোবর, ২০২৫
সন্দ্বীপ পরিচিতি
কিভাবে যাবেন সন্দ্বীপ
ঢাকা থেকে কুমিরা ফকিরাপুল হয়ে চট্টগ্রামগামী যেকোনো বাসে ছোট কুমিরা আসতে ভাড়া পড়বে ৬৮০ টাকা। বাস সুপারভাইজারকে আপনাকে সন্দীপ ফেরিঘাট জাবার রোডের মাথায় নামিয়ে দিতে বলুন। সেখান থেকে কুমিরা-সন্দ্বীপ ফেরিঘাট সেতুতে ১০-২০ টাকায় টমটম অথবা অটোরিকশায় রিকশায় যাওয়া যায়।
চট্টগ্রাম থেকে কুমিরা শহরের অলংকার বা এ কে খান মোড় থেকে ৩০-৩৫ টাকায় সেফ লাইন সার্ভিসে কুমিরা ঘাটঘর রোড যেতে পারেন। আবার ২৭ টাকায় নিউমার্কেট থেকে ৭ নম্বর মেট্রো সার্ভিসে কুমিরা ঘাটঘর রোড যেতে পারেন। কুমিরা-সন্দ্বীপ ফেরিঘাট সেতুতে ১০-২০ টাকায় কুমিরা ঘাটঘর রোড থেকে টমটম বা রিকশায় যাওয়া যায়।
কুমিরা ঘাট থেকে সন্দ্বীপ পর্যন্ত কুমিরা সন্দ্বীপ ঘাট থেকে সন্দ্বীপে স্পিডবোট এবং ছোট লঞ্চ রয়েছে। স্পিডবোটের ভাড়া জনপ্রতি 300 টাকা, গুপ্তাছড়া ঘাট (সন্দ্বীপ) যেতে প্রায় 30 মিনিট সময় লাগবে। হোটেলে থাকতে চাইলে সন্দ্বীপ ঘাট (গুপ্তছড়া ঘাট) থেকে সিএনজি নিয়ে টাউন কমপ্লেক্সে যান। আর ক্যাম্পিং এর জন্য যেতে পারেন সন্দ্বীপের পশ্চিম পাড়ে (রহমতপুর) নদীর কাছে। সন্দ্বীপ ঘাটে নেমে সিএনজি নিয়ে রহমতপুর যেতে পারেন (ভাড়া 250-300 টাকা)।
সন্দ্বীপে থাকার ব্যবস্থা
সন্দ্বীপের প্রধান শহর এলাকা এনাম-নাহার মোড়ে কয়েকটি হোটেল রয়েছে। যদিও মান খুব একটা ভালো নয়। সেনেরহাট এলাকায় ভালো মানের হোটেল আছে। এছাড়া পূর্বানুমতি নিলে উপজেলা পরিষদের ডাক বাংলোতে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। আর ক্যাম্পিং এর জন্য সন্দ্বীপের পশ্চিম প্রান্ত রহমতপুর যাওয়াই ভালো।
নোট
* সন্দ্বীপের বিখ্যাত মিষ্টি খেতে পারেন। তবে তার জন্য আপনাকে যেতে হবে দ্বীপের দক্ষিণে শিব কুঁড়েঘরে। * আপনি একটি সাইকেল ভাড়া করে ঘুরতে পারেন। স্বল্প সময়ের মধ্যে আরামদায়ক একটি এলাকা অন্বেষণ করার সেরা বিকল্প। *রিকশা বা অন্য যানবাহনের ভাড়া একটু বেশি মনে হতে পারে, দর কষাকষি। * এই সময়ে খেজুরের রস পাওয়া গেলে তা না খাওয়া বোকামি হবে। চারপাশে তাকালেই পেয়ে যাবেন। গাছের টাটকা রসের স্বাদই আলাদা। * আপনি যদি কোথাও খেজুরের জুস ফিন্নি/পায়েস ট্রাই করতে পারেন, তবে অবশ্যই স্বাদটি ভুলে যাবেন না। * সম্ভব হলে স্থানীয়দের প্রিয় মোটা খেজুরের মিষ্টির সাথে নারকেল ও খোলজা পিঠা খেতে চলে আসুন।
পরামর্শ
পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কার্যকলাপ এড়িয়ে চলুন, স্থানীয়দের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ হোন। আপনি যদি ক্যাম্পিং করেন তবে চারপাশে আবর্জনা ছড়িয়ে দেবেন না এবং একসাথে পুড়িয়ে ফেলবেন।
সম্পর্কিত পোস্ট
কুমিরা ঘাট, সীতাকুণ্ড
সীতাকুণ্ড উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়ন কুমিরা। চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ যাওয়ার জন্য এখানে সবচেয়ে পরিচিত কুমিরা-সন্দ্বীপ ফ ...
শাফায়েত আল-অনিক
•
২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
বাশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত
প্রাকৃতিক সব রূপ নিয়ে বসে আছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা। এখানে রয়েছে পাহাড়, লেক, ঝর্ণা, সমুদ্র সৈকত, প্রাচীন স্থাপ ...
শাফায়েত আল-অনিক
•
১৬ নভেম্বর, ২০২৫
গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত
গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলায় অবস্থিত। এই সৈকতটি স্থানীয় মানুষের কাছে 'মুরাদপুর সৈকত' নামে ...
শাফায়েত আল-অনিক
•
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫


