Hazrat Shah Niyamatullahs Shrine

হযরত শাহ নিয়ামতুল্লাহর মাজার

Chapainawabganj

Shafayet Al-Anik

·

৪ জানুয়ারি, ২০২৬

হযরত শাহ নিয়ামতুল্লাহর মাজার পরিচিতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ছোট সোনা মসজিদ থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে তাহাখানা কমপ্লেক্সে অবস্থিত হযরত শাহ নিয়ামতুল্লাহর মাজারটি মুঘল স্থাপত্যের একটি প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে সুপরিচিত। হযরত শাহ সৈয়দ নেয়ামত উল্লাহ (রহ.) ষোড়শ শতাব্দীর একজন বিখ্যাত সাধক। তিনি ছিলেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বংশধর এবং একজন মনীষী, পণ্ডিত ও আধ্যাত্মিক গুরু ছিলেন। সুলতান শাহ সুজার শাসনামলে তিনি দিল্লির করোনিয়া থেকে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ফিরোজপুরের রাজমহলে এসে পৌঁছান। বাংলার সুলতান শাহ সুজা তাকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে গ্রহণ করেন এবং আনুগত্যের শপথ নেন। পরে তিনি ফিরোজপুরের গৌড়ের উপকণ্ঠে একটি স্থায়ী আস্তানা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ৩৩ বছর সুনামের সাথে ইসলাম প্রচার করেন। 1075 থেকে 1080 হিজরীতে তার মৃত্যুর পর তাকে এই স্থানে সমাহিত করা হয়।
তাহাখানা থেকে 30-35 মিটার উত্তরে, শাহ নিয়ামত উল্লাহর মাজার, মসজিদের প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত, একটি গম্বুজ বিশিষ্ট ভবনটি উঁচু ইটের উপর দাঁড়িয়ে আছে। এই সমাধিটির প্রতিটি পাশ 49 ফুট দীর্ঘ এবং একটি কাঠ এবং ইটের প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত একটি বর্গাকার নকশা রয়েছে। সমাধিটির পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে মোট 12টি খিলান রয়েছে। তাই এই মাজার শরীফকে বারদুয়ারী বলা হয়। সমাধির মূল কক্ষটি একটি প্রশস্ত বারান্দা দিয়ে ঘেরা, বিভিন্ন ফুল, লতাপাতা দিয়ে সজ্জিত। কবর চত্বরে হযরত শাহ সৈয়দ নেয়ামত উল্লাহ (রহ.)-এর চাকর ও পরিবারের সদস্যদের কবর রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
হযরত শাহ নিয়ামত উল্লাহর জন্ম ও মৃত্যু দিবসে প্রতি বছর মহররমের প্রথম দিনে এই মাজারে ‘ওড়াশ’ পালিত হয়। কিংবদন্তি অনুসারে, হযরত শাহ নেয়ামত উল্লাহ প্রথম ভাদ্র মাসের শেষ শুক্রবার ইসলাম প্রচারের জন্য গৌড় নগরীতে প্রবেশ করেন। সে কারণে ভাদ্র মাসের শেষ শুক্রবার শুভ দিন হিসেবে ভিন্ন ধর্মের ওরশের আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার আছরের পর রাতভর যিকির, শুক্রবার বাদ জুম্মায় হযরতের মাজারে পীর সাহেবের বংশধরদের গৃহীত গিলাফ পরিধান ও সন্ধ্যায় মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী এই মহান সাধকের মাজারে সমবেত হন।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সড়ক ও রেলপথে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাওয়া যায়। মর্ডান, হানিফ বা শ্যামলীর মতো ভালো মানের বাস রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলাচল করে। স্ট্যান্ডার্ডের উপর নির্ভর করে এসি/নন এসি বাসের ভাড়া 830 থেকে 1500 টাকা। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা যাওয়া যায়। সিট প্রতি ভাড়া পড়বে 515 থেকে 1173 টাকা। আপনি সিএনজি বা অটোরিকশা ভাড়া করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শাহ নিয়ামত উল্লাহর মাজারে যেতে পারেন।

কোথায় থাকবেন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হোটেল রাজ, হোটেল আল নাহিদ, হোটেল স্বপ্নপুরী, হোটেল রংধনু, হোটেল নাজমা এবং হোটেল স্কাই ভিউ এর মতো বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। এছাড়া জেলা পরিষদের ডাকবাংলো ও সার্কিট হাউসে অনুমতি নিয়ে রাত্রিযাপন করতে পারবেন।

কোথায় খাবেন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে সরুয়ার হোটেল, ভাই ভাই হোটেল, শরিফা হোটেলের মতো বেশ কিছু খাবারের রেস্টুরেন্ট রয়েছে। আর সুযোগ থাকলে শিবগঞ্জের আসল উপাদেয় খাবারের স্বাদ নিতে পারেন।

অন্যান্য দর্শনীয় স্থান

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে খনিয়াদিঘি মসজিদ, আল্পনা গ্রামের টিকিল, দরাসবাড়ি মসজিদ ও ছোট সোনা মসজিদ।
ফিচার ইমেজ: উইকিপিডিয়া

Related Post

নওদা বুরুজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ

নওদা বুরুজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ

প্রাচীন ইতিহাস সমৃদ্ধ নওদা বুরুজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ২৮ কিলোমিটার দূরে গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুরে অবস্থিত। দূর থেকে নওদা ...

শাফায়েত আল-অনিক

১২ ডিসেম্বর, ২০২৫

খনিয়াদিঘী মসজিদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ

খনিয়াদিঘী মসজিদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জে অবস্থিত খনিয়াদীঘি মসজিদ বাংলাদেশের একটি প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপত্য নিদর্শন। চাঁপাইনবাবগঞ ...

শাফায়েত আল-অনিক

৩ জানুয়ারি, ২০২৬

বাবু ডাইং পিকনিক স্পট

বাবু ডাইং পিকনিক স্পট

বাবু ডাইং পিকনিক স্পটটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর থেকে 10 কিলোমিটার দূরে ঝিলিম ইউনিয়নে, সুন্দর পাহাড়ি বনে অবস্থিত। বরেন্ ...

শাফায়েত আল-অনিক

১০ জানুয়ারি, ২০২৬

logo ColoZai

ColoZai is an easier hotel booking platform in Bangladesh, We are trying to making travel simple and accessible for everyone. Choose ColoZai for a hassle free hotel booking experience.

Need Help ?

We are Always here for you! Knock us on Whatsapp (10AM - 10PM) or Email us.