আদম কাশ্মীর মাজার শরীফ টাঙ্গাইল জেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে নাগেরপুর উপজেলায় অবস্থিত হযরত শাহান শাহ বাবা আদম কাশ্মীরী (রহ.) এর মাজার শরীফ। শাহান শাহ বাবা আদম কাশ্মীরী (রহঃ) ধর্ম প্রচারের জন্য কাশ্মীর থেকে এখানে আসেন। তিনি প্রধানত যেখানে মাজার স্থাপন করা হয়েছে সেখানে বসে বিশ্রাম ও কথা বলতেন। বর্তমানে এই স্থানটিকে সংরক্ষণ করে একটি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের কাছে আদম কাশ্মীর মাজার নামে পরিচিত।

আদম কাশ্মীর মাজার টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলশাফায়েত আল-অনিক ·
১৮ অক্টোবর, ২০২৫
আদম কাশ্মীর মাজার টাঙ্গাইল পরিচিতি
আর যা যা দেখতে পারেন
নাগরপুর বাজার রোডের কাছে ৫৪ একর জমির উপর অবস্থিত, জমিদার সতীশ রায় বাহাদুর চৌধুরীর নির্মিত বাড়িটি, স্থানীয়ভাবে চৌধুরী বাড়ি নামে পরিচিত। নাগরপুরের বহু ইতিহাস ঐতিহ্যের সাক্ষী এই চৌধুরী বাড়ি থেকে জমিদারি চালাতেন সতীশ রায় বাহাদুর চৌধুরী। শৈল্পিক কারুকাজ সম্বলিত এই জমিদার বাড়ির ভেতরে রয়েছে ঘোর দালান, রংমহল ও পরী দালান।
এই জমিদার বাড়িতে নাগরপুর মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ধর্মীয় সম্প্রীতির এক বিরল উদাহরণ জমিদার বাড়ির পাশে একই উঠানে অবস্থিত মসজিদ ও মন্দির। প্রায় ৩০ বছর ধরে এখানে হিন্দু-মুসলিম একসঙ্গে ধর্ম পালন করে আসছে।
চৌধুরী বাড়ির দক্ষিণে 12টি ঘাট সহ উপেন্দ্র সরোবর নামে একটি বিশাল জলাধার রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এই দীঘি নিয়ে অনেক কিংবদন্তি রয়েছে। নাগরপুর উপজেলা সদরে আরও দুটি ছোট জমিদারের সুন্দর ও সুনিপুণ বাড়ি রয়েছে। এছাড়াও উপজেলার গোয়াহাটা নামক স্থানে প্রায় 200 বছর আগে নির্মিত উদয়তারা সমাধিসৌধ রয়েছে। তৎকালীন জমিদার কালী কুমার চৌধুরী মায়ের সমাধির ওপর নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভটি প্রায় তিনশ ফুট উঁচু। স্থানীয়ভাবে উদয়তারা সমাধি সৌধটি গয়াহাটার মঠ নামে পরিচিত।
এছাড়াও পাকুটিয়া ইউনিয়নে আরও একটি জমিদার বাড়ি রয়েছে। বর্তমানে পাকুটিয়া জমিদার বাড়িতে পাকুটিয়া বিসিআরজি কলেজ পরিচালিত হচ্ছে। আহমদ শাহ (রহ.) মাজার শরীফ নাগরপুরের রাতুরিয়া বাজারে অবস্থিত। এই মন্দিরেও প্রচুর ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম হয়।
আদম কাশ্মীর মাজার দেখতে কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে বরম, ঝটিকা, ধলেশ্বরী ইত্যাদি বাস টাঙ্গাইল পর্যন্ত নিয়মিত চলাচল করে। এই সব বাসের ভাড়া ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা।
এছাড়া ঢাকা কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ধুমকেতু এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস, সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস, টাঙ্গাইল কমিউটার, চিত্রা এক্সপ্রেস, হৃতজান এক্সপ্রেস ও লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনে টাঙ্গাইল যাওয়া যায়। সিট ভেদে ট্রেনের টিকিটের দাম পড়বে ৯৫ থেকে ৩৯৭ টাকা।
টাঙ্গাইলের আদম কাশ্মীর মাজার থেকে নাগরপুর উপজেলায় বাস ও সিএনজি যোগে টাঙ্গাইল জেলা শহরের বেবিস্ট্যান্ড থেকে পাওয়া যায়। বাসের ভাড়া সাধারণত 40 টাকা থেকে 60 টাকা এবং নাগরপুর পর্যন্ত সিএনজিতে জনপ্রতি 80 থেকে 100 টাকা খরচ হয়। নাগরপুর উপজেলা সদর থেকে পায়ে হেঁটে বা রিকশাযোগে আশেপাশের সব আকর্ষণে যাওয়া যায়।
কোথায় থাকবেন
নাগরপুর উপজেলা সদরে একটি সরকারি ডাক বাংলো এবং শাপলা গেস্ট হাউস নামে একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন গেস্ট হাউস রয়েছে। এছাড়া টাঙ্গাইল শহরে ফিরলে এখানে বিভিন্ন মানসম্পন্ন রেস্ট হাউস ও আবাসিক হোটেলে রাত্রিযাপন করা যায়।
কোথায় খাবেন
নাগরপুরে কিছু মৌলিক খাবারের হোটেল আছে, যেখান থেকে আপনি প্রয়োজনীয় খাবার পেতে পারেন। অথবা আপনি যদি দিনের পর দিন টাঙ্গাইল শহরে ফিরে যান তাহলে আপনার রুচি ও সামর্থ্য অনুযায়ী টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন মানের হোটেল ও রেস্টুরেন্টে খেতে পারেন।
এছাড়াও পড়ুন: টাঙ্গাইল জেলার আকর্ষণ
সম্পর্কিত পোস্ট
মহেরা জমিদার বাড়ি
বাংলাদেশে মহেরা জমিদার বাড়ির মতো সুন্দর ও সুসজ্জিত জমিদার বাড়ি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। টাঙ্গাইল সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমি ...
শাফায়েত আল-অনিক
•
২৩ নভেম্বর, ২০২৫
এলেঙ্গা রিসোর্ট
এলেঙ্গা রিসোর্ট (এলেঙ্গা রিসোর্ট) ২০০৮ সালে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা নামক স্থানে নির্মিত হয়। টাঙ্গাইল থে ...
শাফায়েত আল-অনিক
•
১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি
পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি (পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি) টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলায় অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী ভবন। জমিদার বাড় ...
শাফায়েত আল-অনিক
•
২৪ অক্টোবর, ২০২৫


