ফুলবাড়ী নেত্রকোনা জেলার কমলাকান্দা উপজেলার লেঙ্গুড়া ইউনিয়নের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে একটি শান্ত গ্রাম। ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে গারো পাহাড়ের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত গণেশ্বরী নদী গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে। আমাদের সীমান্তের মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু পাহাড়-পর্বত, আর সীমান্তের ওপারে মেঘালয় রাজ্য যতদূর চোখ যায়। অগণিত মেহগনি গাছে ঘেরা সেই নির্জন স্থানে সমাধিস্থ করা হয়েছে ৭ জন মুক্তিযোদ্ধাকে। এই স্থানটি সাত শহীদের মাজার নামে পরিচিত।

সাত শহিদের মাজার
নেত্রকোণাশাফায়েত আল-অনিক ·
৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫
সাত শহিদের মাজার পরিচিতি
ইতিহাস
২৬শে জুলাই নেত্রকোনা জেলার বিরিশিরি থেকে কলমাকান্দার পাকসেনা ক্যাম্পে সরবরাহ যাবে এমন খবরে দুর্গাপুর-কলমাকান্দা নদী পথে নাজিরপুর বাজারের কাছে পাক হানাদারদের আক্রমণের পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা মোতাবেক মুক্তিযোদ্ধারা নাজিরপুর বাজারের সকল প্রবেশপথে অ্যামবুশ করে। আসার কথা অনেক সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর, হঠাৎ হানাদার বাহিনীর মুখোমুখি হলে মুক্তিযোদ্ধারা একে একে তাদের অ্যাম্বুশ সরিয়ে নেয়। গুলি, পাল্টা গুলি শুরু হয় দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধারা অতর্কিত হামলার জন্য অনেকটা অপ্রস্তুত ছিল। পাক হানাদার বাহিনী ধীরে ধীরে মুক্তিযোদ্ধাদের এলাকায় প্রবেশ করে। তারপরও মুক্তিযোদ্ধারা লড়াই চালিয়ে যান। সকাল গড়িয়ে বিকেল হতে চলল যুদ্ধ। বিকেলে পাকবাহিনীর আক্রমণ আরও তীব্র হয়। এদিকে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আহত হলে যুদ্ধের গতিপথ পাল্টে যায়। পাক হানাদার বাহিনী সশস্ত্র অবস্থায় কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে ধরে বেয়নেট চার্জ করে হত্যা করে। সেই যুদ্ধে শহীদ হন জামাল উদ্দিন, ড. আব্দুল আজিজ, ফজলুল হক, ইয়ার মামুদ, ভবতোষ চন্দ্র দাস, নুরুজ্জামান, দ্বিজেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস। ২৭ জুলাই সন্ধ্যায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের লেঙ্গুরার ফুলবাড়িতে তাদের দাফন ও দাফন করা হয়।
কিভাবে যাবেন
আপনি ঢাকা থেকে নেত্রকোনা জেলা শহরে আসতে পারেন এবং সেখান থেকে মোটরসাইকেল রিজার্ভ নিয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে কমলাকান্দা উপজেলা হয়ে লেঙ্গুরা বাজার পার হয়ে সাত শহীদের মাজারে যেতে পারেন। নেত্রকোনা সদর থেকে দূরত্ব প্রায় ৫৪ কিলোমিটার। নেত্রকোনার বিরিশিরিতে অনেকেই বেড়াতে যান, সেক্ষেত্রে বিরিশিরি ঘুরে সেখান থেকে লেঙ্গুরা যেতে পারেন। বিরিশিরি থেকে দূরত্ব প্রায় 18 কিমি। অথবা ঢাকার মহাখালী থেকে কমলাকান্দা যাওয়ার সরাসরি নাইট কোচ বাস আছে। কলমাকান্দা থেকে মোটরসাইকেল রিজার্ভ করে লেঙ্গুরা হয়ে মাজারে যাওয়া যায়।
আশেপাশে কী দেখবেন
লেঙ্গুরা জায়গাটা বেশ সুন্দর। এখানে আদিবাসী গারো হাজং সম্প্রদায়ের বসবাস। আপনি পুরো এলাকা অন্বেষণ করতে পারেন. গণেশ্বরী নদীর ধারে বেশ কিছু পাহাড় আছে, সেখানে ঘুরে আসা যায়। পাহাড়ের চূড়া থেকে মেঘালয়ের পর্বতমালা দেখতে ভালো লাগবে। এছাড়া এই লেঙ্গুড়া বাজারের কাছেই গণেশ্বরীর উপর একটি কাঠের সেতু রয়েছে, যা দেখতে বেশ সুন্দর।
কোথায় খাবেন
খেতে চাইলে লেঙ্গুড়া বাজারে ভালো মানের দেশি খাবারের হোটেল পাবেন। কমলাকান্দা বাজারেও বেশ কিছু দেশী খাবার হোটেল আছে।
থাকবেন কোথায়
থাকার জন্য এর চেয়ে ভালো জায়গা আর নেই। তাই একদিনে যাওয়া এবং একই দিনে ফিরে আসা ভালো। থাকতে হলে নেত্রকোনা সদরে আসতে হবে। নেত্রকোনায় বেশ কিছু মানসম্মত আবাসিক হোটেল রয়েছে।
সম্পর্কিত পোস্ট
বিরিশিরি দুর্গাপুর
বিরিশিরি নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। বিরিশিরির বিজয়পুরে রয়েছে আকর্ষণীয় চীনামাটি ...
শাফায়েত আল-অনিক
•
২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
সোমেশ্বরী নদী
নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় সোমেশ্বরী নদী ও এর সৌন্দর্য দেখতে হবে। সোমেশ্বরী নদী ভারতের মেঘালয়ের গারো পাহাড়ের স ...
শাফায়েত আল-অনিক
•
২৪ নভেম্বর, ২০২৫
কমলা রানীর দিঘী নেত্রকোনা
দুর্গাপুর উপজেলা সদর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে বিরিশিরি ইউনিয়ন পরিষদের কাছে ঐতিহ্যবাহী কমলা রানীর দীঘি অবস্থিত। এটি অনেকে ...
শাফায়েত আল-অনিক
•
২৯ নভেম্বর, ২০২৫


