নুহাশ পল্লী

নুহাশ পল্লী

গাজীপুর
·

৬ জানুয়ারি, ২০২৬

নুহাশ পল্লী পরিচিতি

নুহাশ পল্লী নন্দন কানন গাজীপুর জেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে পিরুজালী গ্রামে অবস্থিত। নুহাশ পল্লীর বর্তমান আয়তন প্রায় ৪০ বিঘা। 1987 সালে হুমায়ূন আহমেদ 22 বিঘা জমিতে তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন শুরু করেন। হুমায়ুনের ছেলে নুহাশের নামানুসারে নুহাশ গ্রামের নামকরণ করা হয়েছে। নুহাশ পল্লীর প্রতিটি স্থাপনায় মিশে আছে গল্পের জাদুকর হুমায়ূন আহমেদের স্পর্শ ও ভালোবাসা। হুমায়ূন আহমেদ জীবনের অনেকটা সময় নুহাশ পল্লীতে কাটিয়েছেন বিভিন্ন নাটক ও চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের পাশাপাশি। ঢাকার খুব কাছে হওয়ায় আপনি আপনার পরিবার বা প্রিয়জনদের নিয়ে একদিনেই ঘুরে আসতে পারেন নুহাশ পল্লী।
নুহাশ গ্রামে ঢোকার পরই হাতের বাঁ দিকে সুন্দর সবুজ বন দেখা যায়। এই মরুভূমির বাঁ পাশে লিচু বাগানে শুয়ে আছেন গল্পের জাদুকর হুমায়ূন আহমেদ। নুহাশ পল্লীর প্রবেশ পথ ধরে এগোলেই চোখে পড়বে স্থানীয় স্থপতি আসাদুজ্জামান খানের 'মা ও শিশু' ভাস্কর্যটি। শিশুদের বিনোদনের জন্য ভূত ও ব্যাঙের ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। পাশেই তৈরি করা হয়েছে বাঁকা সুইমিং পুল। ভারতের বিখ্যাত লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে এই সুইমিং পুলে সাঁতার কেটেছেন হুমায়ূন আহমেদ।
সুইমিং পুল পেরিয়ে সামনে এগোলেই দেখা যায় হুমায়ূন আহমেদের কটেজ, দাবার ঘর ও প্রার্থনার জায়গা। এর পরেই বিশাল টিনশেড বারান্দা সহ 'ব্রিস্টিবিলাস' কটেজ। এই কটেজের বারান্দায় বসে বৃষ্টি আর পূর্ণিমা দেখতেন হুমায়ূন আহমেদ। ঠিক উল্টোদিকে তার বিখ্যাত ট্রি হাউস। নুহাশ গ্রামে একটি ঔষধি গাছের বাগান রয়েছে, যেখানে প্রায় 300টি বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে।
ভেষজ বাগানের পিছনে টিন এবং মাটির তৈরি একটি শুটিং স্পট। আর বাগানের সামনে রয়েছে মাছের কুমারী ও রাক্ষসের মূর্তি। এর পাশে কংক্রিটের তৈরি ডাইনোসরের মূর্তি। নুহাশ পল্লীর উত্তরে লীলাবতী দীঘি। এই লেকের মাঝখানে একটি কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করা হয়েছে যা একটি কাঠের সেতু দ্বারা সংযুক্ত। লীলাবতী দীঘির পাশে 'ভূতবিলাস' নামে আরেকটি ভবন রয়েছে। এছাড়াও সাজানো গোছানো নুহাশ পল্লীতে একটি দিন কাটালে আপনি তাৎক্ষণিকভাবে সমস্ত নুহাশ পল্লীতে কবিদের উপস্থিতি অনুভব করবেন।

যেভাবে যাবেন

নুহাশ পল্লীতে যেতে প্রথমে আপনাকে আসতে হবে গাজীপুরের হোতাপাড়া বাসস্ট্যান্ডে। ঢাকা থেকে প্রভাতী, বনশ্রী ইত্যাদিতে বেশ কিছু বাস সার্ভিস রয়েছে। ঢাকা থেকে হোতাপাড়া পর্যন্ত বাসের ভাড়া হবে ৫০ টাকা থেকে ৮০ টাকা। হোতাপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে টেম্পো, রিকশা বা সিএনজিযোগে নুহাশ পল্লী যাওয়া যায়। টেম্পো ভাড়া পড়বে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। রিকশা ভাড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং সিএনজি ভাড়া হবে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। আপনি চাইলে নিজের গাড়ি নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন নুহাশ পল্লী।

নুহাশ পল্লীতে প্রবেশ মূল্য

নুহাশ পল্লীতে প্রবেশের জন্য কোন পূর্বানুমতি লাগবে না। যে কেউ 200 টাকা এন্ট্রি ফি দিয়ে প্রবেশ করতে পারে। 10 বছরের কম বয়সী শিশু, ড্রাইভার এবং গাড়ি পার্কিং বিনামূল্যে। হুমায়ূন আহমেদের কবর জিয়ারত করতে কোনো প্রবেশমূল্য নেই। কবর জিয়ারতের প্রধান ফটকের বাইরে বাম দিকে সমাধির জন্য একটি আলাদা গেট রয়েছে, সেই গেট দিয়ে কবর জিয়ারতের জন্য প্রবেশ করা যায়।

আশেপাশে দর্শনীয় স্থান

নুহাশ পল্লীর খুব কাছেই বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক। আপনি যদি ঢাকা থেকে একদিনে নুহাশ পল্লী দেখার পরিকল্পনা করেন তবে আপনি বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কেও যেতে পারেন। তবে পুরো সাফারি পার্কটি ঘুরে দেখতে অনেক সময় লাগবে। তাই আপনি আপনার সময় অনুযায়ী সাফারি পার্কের পাশাপাশি নুহাশপল্লী দেখার পরিকল্পনা করতে পারেন। এছাড়া পথে পথে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে কিছুটা সময় কাটাতে পারেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক গাজীপুর

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নে অবস্থিত। বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের প্রবেশপথ বাঘের বাজ ...

শাফায়েত আল-অনিক

•

২৪ নভেম্বর, ২০২৫

ছুটি রিসোর্ট গাজীপুর

গাজীপুরের সুকুন্দি গ্রামে প্রায় ৫০ বিঘা জমির ওপর সযত্নে নির্মাণ করা হয়েছে চুটি রিসোর্ট। গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যা ...

শাফায়েত আল-অনিক

•

২৯ নভেম্বর, ২০২৫

জোল ও জঙ্গোলের কাব্বো

গাজীপুর জেলার টঙ্গীর পূবাইতে ৯০ বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠেছে জল ও জঙ্গলের কাব্বো বা পাইলট বাড়ি রিসোর্ট। এই রিসোর্টটিকে দক্ষ ...

শাফায়েত আল-অনিক

•

২০ অক্টোবর, ২০২৫

logo ColoZai

ColoZai is a trusted travel guide and destination explorer platform in Bangladesh. We are making travel simple, authentic, and accessible for everyone.

Need Help ?

We are Always here for you! Knock us on Whatsapp (10AM - 10PM) or Email us.