লালঘাট জলপ্রপাত সুনামগঞ্জ পরিচিতি
লালঘাট জলপ্রপাতটি সুনামগঞ্জ জেলা সদর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে তাহিরপুর উপজেলার কাছে ভারত-বাংলাদেশ জিরো পয়েন্টের কাছে অবস্থিত। লালঘাট আদিবাসী গ্রামের কাছে এই ঝরনার স্বচ্ছ জলের স্রোত অবিরাম গতিতে ভারতের মেঘালয় পর্বতমালার বুক চিরে। লালঘাট ঝর্ণা থেকে জলের প্রবাহ লালঘাট গ্রামের পশ্চিম দিকে একটি বিক্ষিপ্ত প্যাটার্নে সংসার হাওরের মিষ্টি জলের সাথে মিলিত হয়েছে।
ঝর্ণাধারার পূর্বে হাজং সম্প্রদায়ের ছোট ছোট পরিবার নিয়ে গড়ে উঠেছে সবুজের গ্রাম নামে একটি আদিবাসী গ্রাম। লালঘাট আদিবাসী গ্রাম হলেও এখানে প্রায় দেড় শতাধিক স্থানীয় বাঙালি পরিবার রয়েছে। গ্রামের বসতির আশেপাশে রয়েছে পাহাড়ি বন, ফলের গাছ ও নানা ধরনের ফুল। লালঘাট গ্রামের একপাশে দাঁড়িয়ে ভারতীয় সীমান্তে চুনাপাথরের পাহাড়, ভারতীয় লাল ঘাট ও বিএসএফ জওয়ানদের ক্যাম্প দেখা যায়। বর্তমানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা মোহনীয় লালঘাট ঝর্ণাধারা পর্যটকদের কাছে বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
কিভাবে যাবেন
লালঘাট ঝর্ণাধারা দেখতে হলে প্রথমে সুনামগঞ্জ জেলায় আসতে হবে। সায়েদাবাদ, সুনামগঞ্জ থেকে শ্যামলী, হানিফ, বিআরটিসি, নাসিরাবাদ, এনা ও মামুন বাসে যাওয়া যায়। বাস ভাড়া জনপ্রতি ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা। টেকেরহাট থেকে ৫ কিলোমিটার পশ্চিমে শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের সীমান্ত সড়কের পাশে আদিবাসী গ্রামের পাশে লালাঘাট ঝর্ণাধারার অবস্থান। তাহিরপুর উপজেলার সদর থেকে লালঘাট ঝর্ণায় যেতে হলে জলপথে ১৫ কিলোমিটার এবং সড়কপথে ২২ কিলোমিটার যেতে হয়। টেকেরঘাট থেকে বিভিন্ন জায়গায় বাইক ভাড়া পাওয়া যায়।
কোথায় থাকবেন
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ ডাক বাংলো, হোটেল টাঙ্গুয়া ইন, শাহজালাল টাওয়ার ও গ্রীন বোর্ডিং এবং টেকের ঘাটে হোটেল তানিয়া রাত্রি যাপন করতে পারবেন। এছাড়া সুনামগঞ্জে হোটেল নূরানী, হোটেল প্যালেস, রূপসী বাংলা রেস্টুরেন্ট ও হোটেল সেরপিনিয়াসহ বেশ কিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে।
কোথায় খাবেন
তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়া রেস্তোরাঁ, হোটেল আফরোজ ও ভাই ভাই রেস্টুরেন্টে মানসম্মত বাঙালি খাবার খেতে পারেন।
সুনামগঞ্জ জেলার দর্শনীয় স্থান
সুনামগঞ্জ জেলায় টাঙ্গুয়ার হাওর, নীলাদ্রি লেক, জাদুকাটা নদী, শিমুল বাগান, বারেক টিলা এবং হাসন রাজা জাদুঘর সহ বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে।
ফিচার ইমেজ: হাবিব সারওয়ার আজাদ