কালুরঘাট সেতু চট্টগ্রাম

কালুরঘাট সেতু চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম
·

১৭ নভেম্বর, ২০২৫

কালুরঘাট সেতু চট্টগ্রাম পরিচিতি

Kalurghat Bridge (কালুরঘাট সেতু) একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান অবস্থিত, যা চট্টগ্রাম শহরের দক্ষিণ দিকে বহদ্দারহাট থেকে প্রায় 7 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় (1914 সালে) সৈন্যদের চলাচলের জন্য কর্ণফুলী নদীর উপর একটি সেতুর প্রয়োজন দেখা দেয়। সেতু নির্মাণের অংশ হিসাবে, 1930 সালে ব্রুনিক অ্যান্ড কোম্পানি ব্রিজ বিল্ডার্স হাওড়া, একটি কোম্পানি সেতুটির নির্মাণ শুরু করে। 700-গজ দীর্ঘ কালুরঘাট সেতুটি 1930 সালে শুধুমাত্র ট্রেন চলাচলের জন্য উদ্বোধন করা হয়েছিল, কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, সেতুটি যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে সজ্জিত করা হয়েছিল। ১৯৫৮ সালে দেশ বিভাগের পর সেতুটিকে সব ধরনের যানবাহনের উপযোগী করে বর্তমান আকৃতি দেওয়া হয়। কালুরঘাট সেতুতে রয়েছে দুটি আবটমেন্ট, ছয়টি ইটের পিলার, বারোটি স্টিলের পিলার এবং উনিশটি স্প্যান।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ঐতিহাসিক কালুরঘাট সেতুর কারণে বহদ্দারহাটের কাছে স্থাপিত ওয়্যারলেস স্টেশনটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে এবং ওয়ারলেস স্টেশনটির নাম হয় কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ এই কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বর্তমানে কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশ বেতারের সম্প্রচার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

কিভাবে যাবেন

চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে বাস, সিএনজি বা অটোরিকশা ভাড়া করে কালুরঘাট যাওয়া যায়।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম: আপনি ঢাকার সৈয়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে সৌদিয়া, ইউনিক, টিআর ট্রাভেলস, গ্রীনলাইন, হানিফ, শ্যামলী, সোহাগ, এস আলম, মডার্ন লাইন ইত্যাদির এসি-নন/এসি বাসে করে চট্টগ্রাম যেতে পারেন।
এছাড়া কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ট্যুরিস্ট এক্সপ্রেস, কক্সবাজার এক্সপ্রেস, সোনার বাংলা, সুবর্ন এক্সপ্রেস, তূর্ণা-নিশীথা, মহানগর প্রভাতী/গোধুলী, চট্টগ্রাম মেইলে চট্রগ্রাম যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন

চট্টগ্রামে অবস্থিত আবাসিক হোটেলগুলোর মধ্যে হোটেল লর্ডস ইন, হোটেল এশিয়ান এসআর, হোটেল ল্যান্ডমার্ক, হোটেল মিসকা, প্যারামাউন্ট, হোটেল অবকাশ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

কোথায় খাবেন

হোটেল জামান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবারের জন্য বিখ্যাত। আর মেজবানীর জন্য চকবাজারে অবস্থিত “মেজবান হাইলে আয়ুন” রেস্টুরেন্ট অতুলনীয়। এছাড়া চট্টগ্রাম নগরীতে বিভিন্ন মানের অসংখ্য রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বারকোড ক্যাফে, গ্রিডি গুটস, ক্যাফে 88, সেভেন ডেস, ধাবা, গলফ গার্ডেন রেস্তোরাঁ, কোস্টাল মারমেইড রেস্তোরাঁ ও লাউঞ্জ, বোনানজা পোর্ট রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি।
ফিচার ইমেজঃ জাহিদ পায়েল

সম্পর্কিত পোস্ট

কুমিরা ঘাট, সীতাকুণ্ড

সীতাকুণ্ড উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়ন কুমিরা। চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ যাওয়ার জন্য এখানে সবচেয়ে পরিচিত কুমিরা-সন্দ্বীপ ফ ...

শাফায়েত আল-অনিক

•

২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫

বাশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত

প্রাকৃতিক সব রূপ নিয়ে বসে আছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা। এখানে রয়েছে পাহাড়, লেক, ঝর্ণা, সমুদ্র সৈকত, প্রাচীন স্থাপ ...

শাফায়েত আল-অনিক

•

১৬ নভেম্বর, ২০২৫

গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত

গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলায় অবস্থিত। এই সৈকতটি স্থানীয় মানুষের কাছে 'মুরাদপুর সৈকত' নামে ...

শাফায়েত আল-অনিক

•

২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫

logo ColoZai

ColoZai is a trusted travel guide and destination explorer platform in Bangladesh. We are making travel simple, authentic, and accessible for everyone.

Need Help ?

We are Always here for you! Knock us on Whatsapp (10AM - 10PM) or Email us.