নাটোরের বিখ্যাত বনলতা সেনের মতোই নাটোরের ঐতিহ্যবাহী খাবার কাঁচাগোল্লা। ভোজনরসিক বাঙালিরা সকালের নাস্তা বা অতিথি আপ্যায়নের পরে মিষ্টি খেতে পছন্দ করে। আর সেই দিক থেকে নাটোরের কাঁচাগোল্লার রয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। দেশের ১৭তম জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে নাটোরের কাঁচাগোল্লা। তবে এই মিষ্টিকে কাঁচাগোল্লা বলা হলেও দেখতে একেবারেই কাঁচা বা গোল নয়। কাঁচাগোল্লা তৈরির প্রধান উপকরণ হল দুধের চাটনি ও চিনি।

নাটোরের কাঁচাগোল্লা
নাটোরশাফায়েত আল-অনিক ·
৫ নভেম্বর, ২০২৫
নাটোরের কাঁচাগোল্লা পরিচিতি
নাটোরের কাঁচাগোল্লার ইতিহাস
স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় এই মিষ্টির ইতিহাস প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরনো। ধারণা করা হয়, 1757 সালের পর কাঁচাগোল্লা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। 1760 সালে রাণী ভবানীর রাজত্বকালে কাঁচাগোল্লার খ্যাতি দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় জমিদারদের মুখ মিষ্টি করতে নাটোরের কাঁচাগোল্লা ব্যবহার করা হতো। এমনকি দূর দেশ ও ভারতের রাজপরিবাররাও কাঁচাগোল্লা নিয়ে যেতেন। রাজশাহী গেজেট ও কলকাতার বিভিন্ন পত্রিকায় নাটোরের কাঁচাগোল্লা নিয়ে বিভিন্ন ফিচার ছাপা হতো। কাঁচাগোল্লার স্বাদ রসগোল্লা, পান্তোয়া এমনকি সন্দেশের স্বাদকেও হার মানায়।
জনশ্রুতি আছে, রানী ভাবনীর রাজত্বকালে নাটোরের লালবাজারের মধুসূদন পাল নামে এক মিষ্টি বিক্রেতা রাণীকে নিয়মিত মিষ্টি সরবরাহ করতেন। আর মিষ্টি তৈরির জন্য আগের রাতেই ছোলা তৈরি করা হতো। একদিন মিষ্টি তৈরির দোকানে না আসায় মধুসূদন আগের রাতে তৈরি দেড় থেকে দুই মান্না চান্না নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। ছানাগুলোকে নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করতে তিনি কাঁচা ছানার মধ্যে চিনির রস ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। পরবর্তীতে এই চিনি মেশানো মুরগির অসাধারন স্বাদ পান। ভয়ে রাণীর জন্য এই নতুন মিষ্টি নিলেন। রাণীও মিষ্টির স্বাদে অভিভূত হয়ে আশীর্বাদ করতে লাগলেন। অনেক ভাবনার পর নতুন এই মিষ্টির নাম রাখা হয়েছে কাঁচাগোল্লা।
কোথায় পাওয়া যায়?
নাটোর জেলার সর্বত্রই কাঁচাগোল্লা পাওয়া যায়। তবে নাটোরের উল্লেখযোগ্য কিছু দোকান ছাড়া কাঁচাগোল্লা না কেনাই ভালো। নাটোরের কালীবাড়ি নামক আবাসিক এলাকার ভিতরে মন্দিরের সামনের জরাজীর্ণ দোকানটি নাটোরের সেরা কাঁচাগোল্লার দোকান। এছাড়াও নিচা বাজারের কুন্ডু কনফেকশনারি স্টোর, অনুকাল ধারি অ্যান্ড কনফেকশনারি স্টোর, স্টেশন বাজারের নয়ন ও সকাল সন্ধ্যা, বনলতা মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, ডাবপট্টি মিষ্টান্ন ভাণ্ডার এবং স্টেশন বাজার রেলগেটের জগন্নাথ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার থেকে ভালো মানের কাঁচাগোল্লা কিনতে পারবেন। বর্তমানে মধু মৌমাছির মিষ্টান্ন ভাণ্ডার কাঁচাগোল্লা বিক্রিতে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আগে কাঁচা গোল্লার দাম ছিল প্রতি মণ ৩ আনা। তবে বর্তমানে নাটোরে এক কেজি কাঁচাগোল্লার দাম ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সড়ক ও রেলপথে নাটো যাওয়া যায়। ঢাকার কল্যাণপুর ও গাবতলী থেকে হানিফ, ন্যাশনাল ট্রাভেলস, দেশ ট্রাভেলস, গ্রামীণ, তুহিন-অভিজাত পরিবহনে টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু-সিরাজগঞ্জ রুটে নাটোর যাওয়া যায়। ভাড়া 590 টাকা থেকে 1300 টাকা পর্যন্ত। রেলপথে নীলসাগর এক্সপ্রেস, বুড়িমারী এক্সপ্রেস, রংপুর এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস, চিলাহাটি এক্সপ্রেস, হৃদয় এক্সপ্রেস, লালমনি এক্সপ্রেস এবং পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ঢাকার কমলাপুর থেকে নাটোরে যাওয়া যায়। ট্রেনের ভাড়া সীট প্রতি 375 থেকে 1288 টাকা।
আপনি নাটোর সদর থেকে বাস বা অটোরিকশায় করে লালবাজার বা স্টেশন বাজারের ভিতরের দোকান থেকে নাটোরের খাঁটি কাঁচাগোল্লার স্বাদ নিতে পারেন।
কোথায় থাকবেন
নাটোরের মাদ্রাসা মোড় ও রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় হোটেল ভিআইপি, হোটেল মিল্লাত, হোটেল প্রিন্স, হোটেল রাজ, হোটেল রুখসানা ও নাটোর বোর্ডিংয়ের মতো আবাসিক হোটেল রয়েছে।
নাটোর জেলার অন্যান্য দর্শনীয় স্থান
নাটোরের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে চলনবিল জাদুঘর, চলন বিল, রানী ভবানীর রাজবাড়ী, শহীদ সাগর এবং উত্তরা গণভবন।
সম্পর্কিত পোস্ট
উত্তরা গণভোবন নাটোর
নাটোরের বিখ্যাত দিঘাপতিয়া রাজবাড়ী এখন উত্তরা গণভোবন নামে পরিচিত। নাটোরের রানী ভবানী তার নায়েব দয়ারাম রায়কে দিঘাপতিয ...
শাফায়েত আল-অনিক
•
১ নভেম্বর, ২০২৫
রানী ভোবানী রাজবাড়ী নাটোর
নাটোর জেলার প্রাচীন শহরে সপ্তদশ শতাব্দীতে নির্মিত রানী ভবানী রাজবাড়ি (রাণী ভবানী রাজবাড়ি), বাংলাদেশ সরকার ১৯৮৬ সালে রা ...
শাফায়েত আল-অনিক
•
১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
চলন বিল নাটোর
The name of the largest bill in Bangladesh is Chalan Beel (চলন বিল). এই চলন বিলটি নাটোর, সিরাজগঞ্জ এবং পাবনা জেলা জুড়ে ...
শাফায়েত আল-অনিক
•
২ জানুয়ারি, ২০২৬


