বারেক টিলা বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলায় অবস্থিত। বারিক্কা টিলা বা বারিক টিলা নামেও পরিচিত। পাহাড়ের চূড়া থেকে মেঘালয়ের খাসিয়া পাহাড় দেখা যায়। বারিক্কা টিলায় প্রায় ৪০টি আদিবাসী পরিবার বসবাস করে। সবুজ পাহাড় বেয়ে টেকেরঘাটে যাওয়ার রাস্তা তৈরি হয়েছে। ভারতের খাসিয়া পাহাড় থেকে জাদুকরী নদীটি বেশ কয়েকটি পাহাড়ের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বর্ষাকালে জাদুকাটা নদী দিয়ে ভারত থেকে প্রচুর বালু ও পাথর বাংলাদেশে আসে। তারপর এখানে বালি ও পাথর উত্তোলনের কার্যক্রম বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। বারেক টিলা থেকে 40 মিনিটের দূরত্বে বড়চড়া চরগাঁও কাস্টমস স্থলবন্দর। বেশ কয়েকটি পাহাড়ের চূড়া থেকে যাদুকরী নদীর নৈসর্গিক দৃশ্য নগর জীবনের ক্লান্তি মুহুর্তে ধুয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বারিক্কা টিলা ক্যাম্পিং করার জন্য একটি আদর্শ জায়গা। এখান থেকে সূর্যোদয়ের সুন্দর দৃশ্য দেখা যায়।

বারেক টিলা
সুনামগঞ্জশাফায়েত আল-অনিক ·
২৪ অক্টোবর, ২০২৫
বারেক টিলা পরিচিতি
আর যা দেখবেন
বারিক্কা টিলায় দুটি মিষ্টি পানির ঝর্ণা রয়েছে। সাধারণত বর্ষাকাল ছাড়া এ দুটি হ্রদে তেমন পানি থাকে না। বারিক্কা টিলায় বসবাসরত স্থানীয় লোকজন এই কূপের পানি ব্যবহার করেন। অপেক্ষাকৃত বড় ছবিটির অবস্থান হাতের বাম দিকে তাহিরপুরের দিকে যাচ্ছে। এই দুটি বাঁধ দেখতে হলে আপনাকে কিছু ট্রেকিং করতে হবে। আর স্থানীয় কাউকে পথ জানতে চাইলে সে দেখিয়ে দেবে।
ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী যদুকাটা নদীর তীরে প্রাচীন লাউড় রাজ্যের স্মৃতির সাক্ষী লাউরের গড় গ্রাম। এই গ্রামের খুব কাছেই শাহ আরিফিনের মাজার বা মোকাম। এ উপলক্ষে প্রতি বছর ঐতিহ্যবাহী মেলা বসে। 100 বছরেরও বেশি সময় ধরে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
কীভাবে যাবেন
বারিক্কা টিলা বা বারেক টিলা দেখতে হলে আপনাকে প্রথমে সুনামগঞ্জ আসতে হবে। ঢাকার সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন মামুন ও শ্যামলী পরিবহনের বাস সরাসরি সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং মহাখালী থেকে এনা পরিবহনের বাস ছেড়ে যায়। এসব নন-এসি বাসের ভাড়া জনপ্রতি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং সুনামগঞ্জে পৌঁছাতে সময় লাগে ছয় ঘণ্টা। সুনামগঞ্জ থেকে সিএনজি বা মোটরসাইকেল ভাড়া করে সরাসরি বারিক্কা টিলায় আসতে পারেন।
কোথায় থাকবেন
বড়ছড়া বাজারের কাছেই বারেক টিলা। গড় মানের কয়েকটি রেস্ট হাউস আছে। থাকতে চাইলে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা খরচ করতে হবে। তাহিরপুর বাজারে থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে এবং যদি পাওয়া যায় তবে আপনি নীলাদ্রি লেকের কাছে পুরানো চুনাপাথর কারখানার গেস্ট হাউসে রাত কাটাতে পারেন। এছাড়া সুনামগঞ্জ শহরে 200 টাকা থেকে 1000 টাকার মধ্যে বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল পাবেন।
কিছু হোটেলের নাম ও ঠিকানা হোটেল সার্পিনিয়া – জগন্নাথবাড়ি রোড, সুনামগঞ্জ হোটেল নূর – পূর্ব বাজার স্টেশন রোড, সুনামগঞ্জ হোটেল মিজান, পূর্ব বাজার, সুনামগঞ্জ সুরমা ভ্যালি আবাসিক রিসোর্ট হোটেল নূরানী, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, সুনামগঞ্জ হোটেল প্যালেস, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, স্টেশন রোড
কোথায় খাবেন
বারিক্কা টিলায় খাবারের হোটেল আছে। এ ছাড়া বড়ছড়া বাজার বা জাদুকাটার পাশে টেকেরঘাট ছোট বাজারে ভালো মানের দুটি রেস্টুরেন্টে খেতে পারেন।
বারিক্কা পাহাড়ের কাছাকাছি আরো কিছু ভ্রমণ স্থান - টাঙ্গুয়ার হাওড় - জাদুকরী নদী - নীলাদ্রি লেক - শিমুল বাগান - লাকমা পাহাড় - মেঘালয় পাহাড়ের দর্শনীয় স্থান - টেকের ঘাট
সম্পর্কিত পোস্ট
টাঙ্গুয়ার হাওর
টাঙ্গুয়ার হাওর (টাঙ্গুয়ার হাওর) সুনামগঞ্জ জেলায় প্রায় 100 বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা ...
শাফায়েত আল-অনিক
•
৩০ অক্টোবর, ২০২৫
নীলাদ্রি লাইমস্টোন লেক
নীলাদ্রি লেক (নীলাদ্রি লেক) বিখ্যাত পর্যটন স্পট হল একটি পরিত্যক্ত চুনাপাথর চুনা পাথরের লেক। নীলাদ্রি লেকটি সুনামগঞ্জ জেল ...
শাফায়েত আল-অনিক
•
৪ জানুয়ারি, ২০২৬
শিমুল বাগান
শিমুল বাগান সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার জাদুকাটা নদীর কাছে মানিগাঁও গ্রামে অবস্থিত। প্রায় ১০০ বিঘা জায়গাজুড়ে গড় ...
শাফায়েত আল-অনিক
•
১ ডিসেম্বর, ২০২৫


