পাহাড়কন্যা বান্দরবান চট্টগ্রাম থেকে 92 কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত। ৪৪৭৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের পাহাড়কন্যা বান্দরবানে পাহাড় ছাড়াও রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় ঝরনা। চিংড়ি ঝর্ণা খুব সুন্দর একটি ঝর্ণা। একসময় এই বসন্তে প্রচুর চিংড়ি ছিল বলেই এই বসন্তের নামকরণ করা হয়েছে। বগালেক থেকে কেওক্রাডং যাওয়ার পথে ৩০-৪০ মিনিট হাঁটলেই চোখে পড়বে চিংড়ির ঝর্ণা।

চিংড়ি ঝর্ণা বান্দরবান
বান্দরবানশাফায়েত আল-অনিক ·
১৯ নভেম্বর, ২০২৫
চিংড়ি ঝর্ণা বান্দরবান পরিচিতি
উপযুক্ত সময়
বর্ষাকালে বা এর আশেপাশে যেকোনো ঝর্ণার পূর্ণ রূপ পাওয়া যায়। তখন ঝর্ণাগুলো পানিতে পূর্ণ। তবে আপনি চাইলে যে কোন সময় এই ঝর্ণা পরিদর্শন করতে পারেন। অনেক সময় প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধসে পড়ে, তাই বর্ষাকালে গেলে খোঁজ খবর নেওয়া ভালো। এছাড়া যেহেতু চিংড়ি ঝর্ণাটি বগালেক এবং কেওক্রাডং এর পথে তাই আপনি যদি বগালেক ট্যুরে যান তাহলে একটু চেষ্টা করেই চিংড়ি ঝর্ণা ঘুরে আসতে পারেন। অথবা কেওক্রাডং যাওয়ার পথে এই মনোমুগ্ধকর বন্য ঝর্ণাটি দেখুন।
চিংড়ি ঝর্ণা কিভাবে যাবেন
দেশের যে প্রান্তেই থাকুন না কেন, বগালেক যেতে হলে আপনাকে প্রথমে বান্দরবান আসতে হবে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে এস. আলম, সৌদিয়া, সেন্টমার্টিন পরিবহন, ইউনিক, হানিফ, শ্যামলী, ডলফিন ইত্যাদি বাস ছেড়ে যায় বান্দরবানের উদ্দেশ্যে। এসব বাসের ভাড়া যথাক্রমে 800-900 টাকা নন-এসি এবং 1200-1800 টাকা। ঢাকা থেকে বাসে বান্দরবান যেতে 8-10 ঘন্টা সময় লাগে।
বান্দরবান থেকে বগালেক বান্দরবান থেকে চান্দের গাড়ি বা জীপে রুমা বাজারে পৌঁছাতে হবে। গাইড নিয়ে আর্মি ক্যাম্পে নাম লিখুন এবং রিজার্ভ জিপ/চান্দার গাড়ি বা লোকাল চান্দের গাড়িতে করে বগালেক আসুন।
বগালেক সেনা ক্যাম্পে নাম লেখার পর সময় থাকলে চিংড়ি ঝর্ণার উদ্দেশ্যে রওনা দিতে পারেন। অথবা আপনি সেদিন বিশ্রাম নিতে পারেন এবং পরদিন সকালে চিংড়ি ঝর্ণা দেখার জন্য রওনা দিতে পারেন। বগালেক থেকে চিংড়ি ঝর্ণা হেঁটে যেতে সময় লাগবে ৩০ থেকে ৪৫ ঘণ্টা। এই সংক্ষিপ্ত ট্রেকটি আপনাকে সাহসিকতার পাশাপাশি পাহাড়ি পথে হাঁটার অনুভূতি দেবে। ঝর্ণায় সময় কাটিয়ে বগালে ফিরে আসুন।
কিভাবে চিংড়ি ঝর্ণায় যেতে হয় সে সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য আমাদের বগালেক ভ্রমণ গাইডে পাওয়া যাবে। আমাদের কেওক্রাডং ভ্রমণ গাইডে আরও পড়ুন।
কোথায় থাকবেন
বগালেকে এসে এক রাত না থাকাটা হবে বোকামি। আপনি যদি চিংড়ি জলপ্রপাত দেখতে আসেন, তবে বগালে রাতে থাকার পরিকল্পনা নিশ্চিত করুন। সাধারণত পর্যটকরা আসেন বগালেকে বা কেওক্রাডং। সেক্ষেত্রে চিংড়ি ঝর্ণা দেখা একটি বোনাস।
বগালে থাকার জন্য বেশ কিছু সুন্দর উপজাতীয় কটেজ আছে। লেকের কাছে সুন্দর পরিবেশে এই কটেজে থাকতে আপনার খরচ পড়বে 100-250 টাকা। অনেক ব্যতিক্রমী সুযোগ-সুবিধা না থাকলেও পাহাড়ি পরিবেশে লেক ঘেঁষে সাজানো এসব কটেজে রাত্রিযাপন অবশ্যই আপনার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এক রুমের কটেজ 5-6 জনের থাকার ব্যবস্থা করতে পারে। এছাড়া দম্পতি বা মহিলাদের জন্য আলাদা কটেজের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। আপনার যদি অগ্রিম কোন পছন্দ থাকে তবে যাওয়ার সময় গাইডকে বলুন এবং কটেজ ঠিক করে দেবে। অথবা আপনি গিয়ে এটি ঠিক করতে পারেন।
কি খাবেন
রুমা বাজারে খাবারের জন্য বেশ কয়েকটি হোটেল পাবেন। আদিবাসীদের বাড়িতে গবাদি পশুর খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। খাবারের প্যাকেজ সাধারণত 100-200 টাকায় পাওয়া যায়। ভাত, ডিম, আলু, পাহাড়ি মুরগি দিয়ে খাবার তৈরি করা হয়। এ জন্য আগে থেকে বলে দিতে হবে কী খাবেন এবং কতজন খাবেন। আসার সময় খেতে চাইলে গাইডকে জিজ্ঞেস করতে পারেন কখন যাবেন। কটেজে বারবিকিউ সুবিধা রয়েছে, আপনি পাহাড়ি মুরগি কিনে লেকের পাশে বসে উপভোগ করতে পারেন ভিন্ন পরিবেশের এই আয়োজন।
সম্পর্কিত পোস্ট
নাফাখুম জলপ্রপাত
নাফাখুম জলপ্রপাত বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার রেমাক্রি ইউনিয়নে অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের অন্যতম বড় জলপ্রপাত হিসেবে পরিচ ...
শাফায়েত আল-অনিক
•
২৯ নভেম্বর, ২০২৫
নীলাচল বান্দরবান
নীলাচল (নীলাচল) পর্যটন কেন্দ্র বান্দরবান শহর থেকে মাত্র 5 কিলোমিটার দূরে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় 2000 ফুট উচ্চতায় টাইগা ...
শাফায়েত আল-অনিক
•
৩১ অক্টোবর, ২০২৫
সাইরু হিল রিসোর্ট
সাইরু হিল রিসোর্ট বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর রিসোর্ট এর অবস্থান এবং সৌন্দর্য বিবেচনা করে। বান্দরবান শহর থেকে ১৮ ক ...
শাফায়েত আল-অনিক
•
৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫


